নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা,আটক-৪জন

Date: 2026-04-22
news-banner

রিপোর্টারঃ মোঃ এমরান আলী-নিয়ামতপুর(নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ 

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার একটি বাড়ী থেকে স্বামী,স্ত্রী,ছেলে ও মেয়ের গলাকাট লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, হাবিবুর রহমান (৩৬),পিতা- নমির উদ্দিন, স্ত্রী মোসাঃ পপি সুলতানা (২৫),মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলে জাকির হোসেন (১৪) এবং শিশু কন্যা সাদিয়া ইসলাম মৌ (৪)।

এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে মৃত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০),বোন ডালিমা, হালিমা ও ভাগ্নে সবুজ রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।  

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে তারা নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। রাতে দুর্বৃত্তরা ঘুমন্ত অবস্থায় হাবিবুর রহমানসহ তার স্ত্রীকে গলা কেটে এবং  ছেলে ও মেয়েকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে।

প্রতিবেশী বৃদ্ধা সকালে ঘরের দরজার কাছে রক্ত দেখতে পেয়ে ঘরে প্রবেশ করলে খাটের উপর হাবিবুর রহমানের গলা কাটা লাশ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে। স্ত্রীর পপির লাশ ঘরের বাইরে এবং ছেলে জাকির হোসেন ও মেয়ে সাদিয়ার লাশ পাশের ঘরে দেখতে পায়। 

পরে নিয়ামতপুর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করে।কীভাবে কেন তারা খুন হলো তা জানতে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করেছে।তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জমিজমা সংক্রান্ত জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। 
এডিশনাল ডিআইজি শাহাবুদ্দিন আহমেদ,সহকারী পুলিশ সুপার (মান্দা সার্কেল)আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ শাওন,নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইন চার্জ মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন,আমার মেয়ে জামাই,নাতি-নাতনীকে যারা হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি। 

নিহত পপি সুলতানার মা সাবিনা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকেই ওরা আমার মেয়েকে নির্যাতন করে।কয়েকদিন আগে আমার মেয়ের ননদ শিরিনা তার স্বামী ভুটি এবং তার ছেলের বউ মিলে আমার মেয়েকে ধরে মারধর করে।তখন তারা থানায় যায়। থানা তাদের অভিযোগ নিলেও আমার জামাইয়ের কোনো অভিযোগ নেয়নি।থানা থেকে ঘুরে এসে গ্রামের মানুষের কাছে বিচার দেয়।গ্রামের মানুষ তখন আপস মিমিংসা করে দেয়।তারপর কোর্টে মামালা করে।জমি যখন আমার জামাইকে দেয় তখন তার ৫ বোনকেও  আড়াই বিঘা করে জমি লিখে দেয়।আর আমার জামাইকে বাড়ি ভিটা মিলে ১০ বিঘা জমি দেয়।আমার জামাই তার বাবার একমাত্র ছেলে।

আমার জামাইকে ১০ বিঘা জমি দেওয়াতেই তাদের মূল সমস্যা।এইটা নিয়েই তাদের হিংসা শুরু হয়।তখন থেকেই তারা এর বংশকে নির্বংশ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।আমার মেয়েকে তারা বহুদিন থেকে নির্যাতন করে।ওরা ৫ বোন মিলেই আমার মেয়ে-জামাই ও নাতি নাতনীকে মেরে ফেলছে।

নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইন চার্জ মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) বলেন, চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

রিপোর্টারঃ মোঃএমরান আলী 
নিয়ামতপুর প্রতিনিধি,নওগা জেলা।
০১৭৪০২৫৭৪৩০
তাং ২১/০৪/২০২৬

Leave Your Comments

Trending News