বাগেরহাটের খানজাহান আলী পাম্পে তেল সংকটে নাভিশ্বাস মোটরসাইকেল চালকরা

Date: 2026-04-07
news-banner

রিপোর্টঃ বাগেরহাট প্রতিনিধি


এপ্রিল ৭: বাগেরহাটের খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনসহ জেলার বিভিন্ন পাম্পে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।ঈদের আগে থেকে শুরু হওয়া এই সংকট প্রায় তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও কাটছে না বরং দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা দীর্ঘ সিরিয়ালে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না, যা তাদের জীবনযাত্রা ও কর্মক্ষেত্রকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।পাম্পে দীর্ঘ সিরিয়াল,ভোগান্তির অন্ত নেই

বাগেরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্র খানজাহান আলী পেট্রোল স্টেশনে গত কয়েকদিন ধরে ৫০০ মিটার জুড়ে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। জজ কোর্টের সামনে থেকে শুরু করে পাম্প পর্যন্ত এই লাইন প্রসারিত হয়েছে। চালকদের অনেকে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও এখনও তেল পাননি। শহরের খারদ্বার এলাকায় খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশন ও বরকত ফিলিং স্টেশন ঘুরে পেট্রোল না পেয়ে অনেকে ১১ কিলোমিটার দূরে সাইনবোর্ড বাজারের ওসমান আলী ফিলিং স্টেশনে গিয়ে ঘন্টাখানেক দাঁড়িয়ে ২০০ টাকার তেল নিয়ে ফিরতে হচ্ছে।

জেলার বাগেরহাট সদর,কচুয়া,ফকিরহাট,মোল্লাহাট ও শরণখোলা উপজেলায় মোট ২৩টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে,যার সবকটিতেই তীব্র তেল সংকট বিরাজ করছে।চালকদের হাহাকার

সিগারেট কোম্পানিতে চাকরিরত নুরুজ্জামান জানান,গত রাতে ৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ২০০ টাকার তেল নিয়েছি।সকাল থেকে আবারও বাজারে আছি। সুযোগ পেলেই পাম্পে ঢু মারি, যদি তেল আসে নিয়ে নেবো। চাকরি বাঁচাতে হলে তো মোটরসাইকেল লাগবে।অপর চালক আসিফ বলেন, অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়,গরমে খুব কষ্ট হয়।আব্দুল্লাহ শেখ নামের আরেক চালকের অভিযোগ, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখনও তেল পাইনি। কাজের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। গরমে শরীরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

কেন এই সংকট?

পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন,প্রয়োজনীয়তার তুলনায় অনেক কম তেল দেওয়া হচ্ছে।খুলনাঞ্চলে ডিপো পর্যায়ে সরবরাহ কমে যাওয়া, ট্যাংকলরিতে অর্ধেক তেল দেওয়া এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।এদিকে দেশব্যাপী সংকটের আরেকটি কারণ হিসেবে চালকদের বাড়তি তেল মজুদ করাকে দায়ী করা হচ্ছে।অভিযোগ,অনেকে ট্যাংকি পূর্ণ করে বাসায় নিয়ে তা মজুত করছেন,যার ফলে স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি তেল বিক্রি হচ্ছে এবং তা নিমেষেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

জনজীবনে প্রভাব

জ্বালানি তেলের এই সংকট সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও পেশায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।ঔষধ কোম্পানির চাকরিজীবী রোকনুজ্জামান জানান,পেশাগত কারণে প্রতিদিন একশত কিলোমিটারের বেশি গাড়ি চালাতে হয়।এক সপ্তাহের মতো হলো,তেলের খুব সংকট যাচ্ছে।খুবই চিন্তায় আছি,কখন যেন পুরোপুরি গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়।

স্বস্তির আয়োজন

তীব্র তাপদাহ ও দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তিতে পড়া চালকদের জন্য বাগেরহাট জেলা ছাত্রদল পানি ও স্যালাইন বিতরণের ব্যবস্থা করেছে।জেলা ছাত্রদল নেতা শেখ আল মামুন জানান,মোটরসাইকেল চালকেরা এই গরমে তিন-চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল নিচ্ছেন,অনেকে ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাদের কষ্ট লাঘবের জন্যই এই উদ্যোগ।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave Your Comments

Trending News