মোঃ ইনজামুল হক( সজল শেখ),নড়াইল
নড়াইলে মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের সাত শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাহাবুবুর রহমান (২৫) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানার কলাগাছর এলাকার একটি মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মাহাবুবুর রহমান নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বলোরামপুর গ্রামের আলমগীর শেখের ছেলে। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার তাফসীর উদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট গভীর রাতে ওই মাদ্রাসার আট বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে হলরুমে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে শিক্ষক মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। পরদিন বিকেলে ওই শিক্ষার্থীর মা মাদ্রাসায় গিয়ে সন্তানের সঙ্গে দেখা করলে শিশুটি তার মাকে বিষয়টি জানায়। পরে তিনি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। এ ঘটনার পর আরও পাঁচ শিশুশিক্ষার্থী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষক আরও এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই ধরনের অপরাধ করে মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যান। সব মিলিয়ে মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে সাত শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর এক ভুক্তভোগী শিশুর মা নড়াইল সদর থানায় মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার একটি মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
নড়াইল সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আট বছর বয়সী এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত মাহাবুবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।