সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে নেত্রকোনায় আরজেএফ এর মানববন্ধন
Date: 2026-10-22
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচার, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন রুর্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) এর নেতাকর্মীবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় জেলা প্রেসক্লাবের সামনে রুর্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) নেত্রকোনা জেলা শাখার আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন আরজেএফ নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি সুজাদুল ইসলাম ফারাস। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এরশাদুল হক জনি।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আরজেএফ এর চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম।
আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, প্রবীণ সাংবাদিক ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি শ্যামলেন্দু পাল, জেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ও চ্যানেল আইয়ের প্রতিনিধি জাহিদ হাসান এবং দৈনিক জননেত্র পত্রিকার সম্পাদক এম মুখলেছুর রহমান খানসহ অন্য সাংবাদিকবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা হত্যার শিকার হবেন, অথচ এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে না—এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার সাহস না পায়।
আরজেএফ চেয়ারম্যান বলেন, অতীতেও সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় বিচার না হওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিক হত্যার প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিক আলিফ হত্যাকান্ডের বিচার নিয়ে গড়িমসি করলে, সাংবাদিকরা আরো কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হবে।
উল্লেখ্য গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজারসংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
এ ঘটনায় এ পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে দুর্গাপুর পৌর শহরের শহীদ মিনার এলাকা থেকে আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণকে গ্রেপ্তার করে র্যাবের বিশেষায়িত ইউনিট এসআরবি-১৪। গত বুধবার নেত্রকোনার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. আলিমুল ইসলাম তাঁর তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ১৮ অক্টোবর রাতে সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব নামের আরেক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাঁকে প্রথমে এক দিন এবং পরে আরও চার দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকেরা।





