নড়াগাতীতে ইউপি সদস্য মনি মিয়া হত্যা: তিনদিনেও হয়নি মামলা, খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
Date: 2026-07-27
বিশেষ প্রতিনিধি:
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার জয়নগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনি মিয়া শেখ (৪৭) হত্যাকাণ্ডের তিনদিন পার হলেও এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। এতে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, মামলা গ্রহণ এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন নিহতের স্বজন, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে পুটিমারি বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে পানিপাড়া এলাকার কামরুল ঠাকুরের বাড়ির সামনে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মনি মিয়া শেখের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে প্রথমে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১১টায় নড়াগাতী থানার সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে জয়নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী আয়ুব হোসেন,নিহতের বড় ভাই পিরু শেখ, স্ত্রী মনিকা বেগম, মেয়ে বৈশাখীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন,একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তিনদিন পার হলেও এখনো মামলা না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে মামলা গ্রহণ,জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং ফাঁসিসহ সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ,তারা থানায় মামলা দায়েরের উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত মামলা গ্রহণ করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের আসামি করা হচ্ছে বা মামলা গ্রহণে কী ধরনের জটিলতা রয়েছে,সে বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
এ বিষয়ে নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে তিনদিনেও মামলা না হওয়ার কারণ সম্পর্কে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, নিহত মনি মিয়া শেখ অতীতে একাধিক হত্যা, হামলা ও অগ্নিসংযোগ সংক্রান্ত মামলার আসামি ছিলেন। তারা আকবর সিকদার হত্যা, পানিপাড়া পাচু শেখ হত্যা, শহিদ শেখ হত্যা, মনিরুল শেখ ও ইমরুল শেখকে গুরুতর আহত বা পঙ্গু করার অভিযোগসহ প্রায় ৫০টি পরিবারের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগও উত্থাপন করেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া তারা দাবি করেন, অতীতে পাচু শেখকে হত্যার পর যেখান থেকে মরদেহ মধুমতী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, একই স্থানের কাছেই মনি মিয়া শেখ হামলার শিকার হন।
তবে স্থানীয়দের উত্থাপিত এসব অভিযোগের বর্তমান আইনগত অবস্থা, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিচারিক অগ্রগতি কিংবা আদালতে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, জড়িতদের পরিচয় এবং ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
এদিকে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত মামলা গ্রহণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।





