মোঃ এনামুল হক-নড়াইল
নড়াইলে তিন গ্রামের মানুষের বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। পাঁচ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কে কাদা আর কাদা। মাঠের ফসলও ঘরে তুলতে কষ্টের শেষ নেই এ সব গ্রামের কৃষকদের। বর্ষাকালে সব ধরনের যান চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। হঠাৎ করে কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে হাসপাতালে আনতে তাদের জীবন অর্ধেক শেষ। সড়কটির এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে তারা ছুটেছেন সরকারি দফতরে। কিন্তু কোনো প্রতিকার মেলেনি।
গ্রামীণ সড়কটি নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের নিরালী গ্রাম থেকে শেখহাটি ইউনিয়নের দেবভোগ অভিমুখী। নদীর কুলবতী দুই গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের গ্রামীণ এ সড়ক নির্মাণের দাবি বহু আগে থেকেই। কিন্তু বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি পেলেও রাস্তায় উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি।
শুধু দেবভোগ নিরালী নয়, মুলিয়া ইউনিয়নের পানতিতা নদীর কূল হয়ে আখুদা দেবভোগ, এগারোখান রাস্তাটি কাঁচা রয়ে গেছে। কয়েকশত মানুষের বসবাস এ গ্রাম দুটিতে। কাঁচা রাস্তা হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদফতরের (এলজিইডি) তথ্য মতে, তাদের অধীনে থাকা ১ হাজার ৪ শত ৪৭ টি সড়ক, যার দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ২ শত ২৫ কিলোমিটার। গ্রামীণ এ সড়কের ৬০ শতাংশ কাঁচা। এর মধ্যে রয়েছে, সদর উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ১ হাজার ১শ ৮১ কিলোমিটার এর মধ্যে কাঁচা সড়ক ৭শত ৩৮ কিলোমিটার। এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬২ শতাংশ।
এদিকে, লোহাগড়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ১ হাজার ১৯৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে কাঁচা ৭শ ৮৯ কিলোমিটার, এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬০ শতাংশ। কালিয়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ৭৪৫ কিলোমিটার যার মধ্যে কাঁচা ৪৩৩ কিলোমিটার। কাঁচা সড়ক রয়েছে ৫৮ শতাংশ।
এছাড়া এলজিইডিতে নতুন সড়ক তালিকা আইডি ভুক্ত (গেজেট) করার জন্য ১ হাজার ১০০টি কাঁচা সড়কের তালিকা পাঠানো হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৯৪৬ কিলোমিটার। আরও ২৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ২১৪টি কাঁচা সড়ক নতুন করে তালিকা ভুক্ত করার কার্যক্রম চলছে।