‎নিয়ামতপুরে চার খুন ‎তদন্ত নিয়ে গ্রামবাসীর ক্ষোভ, প্রশ্নের মুখে পুলিশ

Date: 2026-04-27
news-banner

নিজস্ব প্রতিবেদক:
‎নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে সংঘটিত বহুল আলোচিত চার খুনের ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

তাঁদের অভিযোগ,পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকেই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে।একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।
‎গতকাল রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে গ্রামবাসী বাহাদুরপুর মাদ্রাসা মাঠে মানববন্ধনের আয়োজন করেন।তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তা স্থগিত করে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

সভায় উপস্থিত নারীসহ গ্রামবাসীর প্রশ্নের মুখে পড়েন পুলিশ কর্মকর্তারা।পরে স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,নিহত হাবিবুর রহমানের পরিবারে জমি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।তাঁর বাবা নমির উদ্দিন জীবিত অবস্থায় অধিকাংশ সম্পত্তি ছেলে-মেয়েদের নামে লিখে দেন। এতে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে,নমির উদ্দিনের প্রথম স্ত্রী হালিমা বেগমের মৃত্যুর জমি লিখে দিয়ে পরপর দুটি বিয়ে করেন।কিন্তু এ দুজন স্ত্রী জমি লিখে নিয়ে সংসার না করে চলে যান।চতুর্থ বিয়ের জন্য জমি প্রয়োজন হওয়ায় ছেলের নামে দেওয়া জমি ফেরত চেয়েছিলেন।এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে।
‎গ্রামবাসীর একটি অংশের ধারণা,এই বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হতে পারে।তাঁদের সন্দেহের তীর হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিন ও বড় বোন ডালিমা বেগমের দিকে।ঘটনার পর পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাঁরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

‎এদিকে মামলার আসামি সবুজ রানার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে।তবে তাঁর জবানবন্দি ও পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে।পুলিশ বলছে, ঘটনার সময় নমির উদ্দিনকে ঘরে শিকলবন্দি করে রাখা হয়েছিল।কিন্তু স্থানীয়দের দাবি,তিনি ভোরে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন এবং ফিরে এসে লাশ দেখতে পান।এতে করে প্রশ্ন উঠেছে তিনি কীভাবে মুক্ত হলেন বা আদৌ শিকলবন্দি ছিলেন কি না।
‎এই ঘটনায় নিহত পপি সুলতানার বাবা আঃ রশিদ  বাদী হয়ে নিয়ামতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় হাবিবুরের দুলাভাই শহিদুল ইসলাম,ভাগনে সবুজ রানা ও শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
‎বাহাদুরপুর জাগরণী ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রুমন আহমেদ ইফতি বলেন,গ্রামের মাদ্রাসা মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ৪ খুনের অন্যতম আসামি সবুজ রানা ২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে নাহিদ বাবু নামের এক কিশোরকে কুপিয়ে জখম করে।এ ঘটনায় সবুজ রানা গ্রেপ্তার হয়ে কিশোর সংশোধানাগারে ছিল।ওই ঘটনায় সঙ্গে সবুজ রানা গ্রামের আরও কয়েক কিশোরকে জড়ানোর চেষ্টা করে।মামলাটি বর্তমানে নওগাঁ আদালতে বিচারাধীন আছে।
‎এ প্রসঙ্গে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন,ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত কাজ করা হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
‎উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল গভীর রাতে বাহাদুরপুর গ্রামে হাবিবুর রহমান,তাঁর স্ত্রী পপি সুলতানা,ছেলে ও মেয়েকে জবাই করে হত্যা করা হয়।ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং দ্রুত বিচার দাবি করছেন স্থানীয়রা।

Leave Your Comments

Trending News