বরিশাল বিভাগ অফিসার্স এসোসিয়েশনের উদ্দোগে রাজধানীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন প্রসঙ্গ দক্ষিণবঙ্গ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।প্রতিবছর জাতীয় বাজেট বরাদ্দে ভৌগোলিক,সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ বরিশাল বিভাগের জেলাগুলো কম বরাদ্দ পেয়ে থাকে যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাঙিক্ষত জনগনের জীবনমান উন্নত করার প্রচেষ্টায় বিরাট বাধা।ফলে প্রতিবছরের উন্নয়ন বাজেট বন্টনে সমতা রক্ষার মাধ্যমে বরিশাল বিভাগের দারিদ্র,বেকারত্ব,স্বাস্থ্য শিক্ষাগত সমস্যা,নারীর প্রতি অসহিষুতা হ্রাসকরেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সেমিনারের মুল প্রতিপাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।শুক্রবার ৩মার্চ বিকাল ৩টায় শাহবাগস্হ জাতীয় জাদুঘরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিভাগ অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(বিডা)নির্বাহী চেয়ারম্যান(সিনিয়র সচিব)লোকমান হোসেন মিয়া।উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্যসচিব মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন ভাবনা বিষয় কোন একটি বিভাগের সুনির্দিষ্ট করে গবেষনাধর্মী সেমিনার তাঁর জানামতে এই প্রথম এজন্য তিনি এই গবেষনাধর্মী কাজের সাথে যারা জড়িত তাদের ধন্যবাদ জানান।তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন পদ্মা সেতু আমাদের স্বপ্নের চেয়ে ও বড়।সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন দর্শন এবং সেই উন্নয়ন পুরো দক্ষিণবঙ্গে একসূত্রে গাথা।দক্ষিবঙ্গবাসী সারাজীবন মনে রাখবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীে।দীর্ঘকাল বরিশাল অবহেলিত ছিল কিন্তু বরিশালের উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পায়রা বন্দর করেছেন,ভোলায় গ্যাসক্ষেত্র করেছেন বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করেছেন ১০ লক্ষ গৃহহীনদের ঘর প্রদান করেছেন,২শতক জমি রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেছেন।এই সুবিধাগুলো বিশেষ করে পেয়েছেন সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা।তাদেরকে মূলধারার উন্নয়নে মধ্যে আনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবদান।তিনি বলেন নিশ্চয়ই বরিশাল রেললাইন তৈরি করা হবে।তিনি বলেন আজকের সেমিনারে বরিশালের উন্নয়নে যে যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে তা খুবই যৌক্তিক।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এগুলো পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করবেন।তিনি এই দাবীগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন।সকলের উদ্দোশ্য তিনি বলেন আপনাদের যোগাযোগ রাস্তাঘাট নির্মান যা দরকার সেগুলো তাকে জানালে তিনি ব্যবস্থা করে দেয়ার চেষ্টা করবেন।কিন্তু এই উন্নয়ন ভাবনা যেন হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন ভাবনার মতো সুশৃঙ্খল এবং সমম্বিত।তিনি বলেন আজকের এই সেমিনার আমার দেশের উন্নয়নে একটি ঘুম জাগানিয়া ডাক।এই ডাক মূলত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর।এজন্য সবশেষে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতি কৃতজ্ঞাত জানাই।দক্ষিনবঙ্গের উন্নয়নের দাবিসমূহ তুলে ধরে সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সরকারি কর্ম কমিশনের(পিএসসি)সাবেক সদস্য ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক গবেষক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ।তিনি সেমিনারে প্রবন্ধে দক্ষিণবঙ্গের প্রতি বিভিন্ন অসমতা উল্লেখ পূর্বক দক্ষিণবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন দাবিসমূহ তুলে ধরেন।তিনি বলেন দেশের সার্বিক উন্নয়ন লক্ষ্যে জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা দুরদৃষ্টি সম্পন্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গৃহীত সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে প্রবৃদ্ধির মাত্রা কাঙ্গিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে।দক্ষিনবঙ্গসহ সমগ্র দেশবাসী ভোগ করবে দীর্ঘমেয়াদের সুফল পূরণ হবে বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা বিনির্মান স্বপ্ন।আমরা পাবো একটি স্মার্ট বাংলাদেশ।এর আগে স্বাগত বক্তব বাখেন,বরিশাল বিভাগ অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক জাতীয় রাজস্ব বোডের সিনিয়র কমিশনার কাস্টমস,এক্সইজ ও ভ্যাট আপীলত টাইব্রুনালের সদস্য(টেকনিক্যাল)এবং সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ড.মোঃ মতিউর রহমান।তিনি বলেন ২০০৮ সালের ৩০ডিসেম্বর নবম জাতীয় নির্বাচনে নিরস্কুশ বিজয়ের পর ২০০৯সালের ৬ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার।এরপর ২০১৪ সালে এবং ২০১৮সালে অস্ত্রের ধারাবাহিতা বজায় রেখে রাষ্ট্রক্ষমতায় টানা ১৪বছরপূর্ণ করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে যেমন পরাধীনতার শৃঙ্খলা থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বাংলাদেশ তেমনি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দুরদর্শী নেতৃত্ব গত১৪বছরে দেশের পরিচালনা ও উন্নয়ন ঈর্ষশীয় সাফল্য কুড়িয়েছে সরকার।রূপকল্প ২০২১ ও ভীষন ২০৪১ ডেল্টা প্ল্যান,এস ডি জি এর লক্ষ্যে ও উদ্দোশ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।পদ্মা বহুমুখী সেতু,রূপপুর পারমানবিক প্রকল্প ঢাকা এলিভেটেভ এক্সপ্রেসওয়ে,মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর,কর্নফুলী টানেল,পয়সা সমুদ্রবন্দর,বরিশাল তথ্য বৃহত্তর দক্ষিণবঙ্গের উন্নয়ন সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একযোগ কাজ করতে অনুরোধ লোকমান হোসেন মিয়া বরিশালের এ যাবতকালে সার্বিক উন্নয়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে আগত সকলকে ধন্যবাদ জানান।