রিপোর্টারঃ নড়াইল প্রতিনিধি-নড়াইল জেলার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সাম্প্রতিক সময়ে ১০ টি ল্যাপটপ চুরি হওয়ায়।এরই প্রেক্ষিতে নড়াইল জেলার সদর থানায় মামলা রুজু হয়।রুজুকৃত মামলার তদন্তকালীন সময়ে নড়াইল জেলা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে নড়াইল থেকে চুরি হওয়া ১০ টি সরকারী ল্যাপটপ উদ্ধার করে এবং চুরির ঘটনার সাথে জড়িত আন্তঃজেলা চোর চক্রের ০২ জনকে গ্রেফতার করে।
স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদেরকে আধুনিক প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে সরকারের আইসিটি বিভাগ কর্তৃক বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারীভাবে উন্নতমানের ল্যাপটপসহ অন্যান্য আইসিটি সরঞ্জাম প্রদান করা হয়।
গত ইং ০৩/০৮/২০২৫ তারিখ সকাল ০৯.০০ ঘটিকা হইতে ১০.০০ ঘটিকা পর্যন্ত নড়াইল শিমুলিয়া কলেজের আইসিটি-ডি ল্যাবে প্রাক্টিকাল ক্লাস সম্পন্ন করে দুপুর অনুমান ০২.০০ ঘটিকার সময় ল্যাবের দরজায় তালা লাগিয়ে বাড়ীতে চলে যান। পরবর্তীতে ২৫/০৮/২০২৫ তারিখ উক্ত কলেজের আইসিটি প্রাক্টিকাল পরীক্ষা থাকায় ২৪/০৮/২০২৫ তারিখ সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় কলেজের পরিচ্ছন্নকর্মী মোশারফ সরদার’কে সাথে নিয়ে তিনি ল্যাবের তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করেন।
ভিতরে প্রবেশ করে দেখেন ল্যাবের ভিতরে থাকা সরকারি বরাদ্দকৃত ওয়ালটন কোম্পানির ১৭ টি ল্যাপটপের মধ্যে ১১টি ল্যাপটপ,যাহার মূল্য আনুমানিক (৬৫০০০ x ১১)-৭,১৫,০০০/-টাকা ও বাদীর ব্যক্তিগত compaq কোম্পানির ০১টি ল্যাপটপ,মূল্য আনুমানিক ৪০,০০০/ টাকা নাই এবং আইসিটি ডি রুমের পিছনের জানালার গ্রিল ও পর্দা কাটা।তখন কলেজের পরিচ্ছন্নকর্মী মোশারফ সরদার সাথে সাথে অধ্যক্ষ স্যারকে ঘটনার বিষয়টি জানান।অধ্যক্ষ স্যার কলেজের অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে নিয়ে আইসিটি-ডি ল্যাবে আসেন।
নড়াইল শিমুলিয়া কলেজের অধ্যক্ষ নড়াইল সদর থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়।সদর থানার এসআই(নিঃ)শেখ সুজাত আলী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি।ঘটনার সাথে জড়িত চোরদের সনাক্তের লক্ষ্যে একাধিক বিশ্বস্ত সোর্স নিয়োগ করি।চোরাই মালামাল উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনা করি।
গত ২৭/০৮/২০২৫ ইং তারিখ বিকাল অনুমান ০৩.৪৫ ঘটিকার সময় ১নং আসামী মোঃ উজ্জল শেখকে আগদিয়া বাজার হইতে আটক করা হয়।আটককৃত আসামী মোঃ উজ্জল শেখ’কে কলেজে ল্যাপটপ চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে সে জানায় যে,বায়েজিত শেখ (১৭), মোঃ রকি (২৬) ও মোঃ লিটন লিটান মোল্যা(৩৯)মিলে কলেজ হতে ১২টি ল্যাপটপ চুরি করে।আসামী উজ্জল শেখ চুরি হওয়া ১২টি ল্যাপটপের মধ্য হইতে ০১টি ল্যাপটপ তার বাড়ীতে নিয়ে যায় মর্মে জানায়।তখন ধৃত আসামী মোঃ উজ্জল শেখ’কে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়ীতে উপস্থিত হয়ে তল্লাশি করি।তল্লাসিকালে ধৃত আসামী উজ্জল শেখ তার বসতবাড়ি ছামিয়ানা বেষ্ঠিত আড়ার উপর সাদা প্লাস্টিকের বাজার করা ব্যাগের ভিতরে রাখা ০১টি ওয়ালটন কোম্পানির ল্যাপটপ,যার মডেল নং WPBX5107GRF102112222 মূল্য অনুমান ৬৫,০০০/ টাকা বের করে দেয়।
২৭/০৮/২০২৫ তারিখ বিকাল অনুমান ০৫.১৫ ঘটিকার সময় উক্ত ল্যাপটপটি জব্দতালিকা মূলে জব্দ করি।ধৃত আসামীকে চুরি যাওয়া অন্যান্য ল্যাপটপের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে সে জানায় যে,অবশিষ্ট ল্যাপটপ গুলো পলাতক আসামীদের কাছে আছে।আসামী মোঃ উজ্জল শেখ এর দেওয়া তথ্যমতে ইং ২৮/০৮/২০২৫ তারিখ রাত্র অনুমান ০১.১৫ ঘটিকার সময় আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু ২।মোঃ বায়েজিত শেখ (১৭) ‘কে তার নিজ বসত বাড়ী হইতে আটক করি।মোঃ বায়েজিত শেখ’কে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে সে জানায় ০১টি ল্যাপটপ ১নং আসামী মোঃ উজ্জল শেখ এর বসত বাড়ীর রান্না ঘরে খড়ির নিচে রাখা আছে।তখন ধৃত আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু মোঃ বায়েজিত শেখকে সাথে নিয়ে ১নং আসামী উজ্জল শেখের বাড়ীতে গিয়ে আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু বায়েজিত শেখের দেখানো মতে ১নং আসামী উজ্জল শেখের রান্না ঘরের খড়ির নিচ হইতে ০১টি ওয়ালটন কোম্পানির ল্যাপটপ, যার মডেল নং-WPBX5107GRF102111901 মূল্য অনুমান ৬৫,০০০/-টাকা উদ্ধার করেন।
পুলিশ উক্ত ল্যাপটপটি জব্দ তালিকা মূলে ইং ২৮/০৮/২০২৫ তারিখ রাত্র অনুমান ০১.৪৫ ঘটিকায় জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করেন।
ধৃত আসামী ও আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু মোঃ বায়েজিত শেখ’কে অবশিষ্ট ল্যাপটপের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে বায়েজিত শেখ জানায় অবশিষ্ট ল্যাপটপের মধ্যে হইতে ০৪টি ল্যাপটপ ধৃত ১নং আসামী উজ্জল শেখ ও পলাতক ৩নং আসামী মোঃ রকি ১নং আসামী উজ্জল শেখ এর স্ত্রী এর ভাড়া বাসা যশোর জেলার অভয়নগর থানাধীন দূর্গাপুর গ্রামে রেখেছে এবং আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু মোঃ বায়েজিত শেখ নিজে ও ধৃত ১নং আসামী উজ্জল শেখ দুইজনে মিলে আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু বায়েজিত শেখ এর নিজের ভ্যানে করে ০৪টি ল্যাপটপ ১নং আসামী উজ্জল শেখ এর স্ত্রী এর ভাড়া বাসা যশোর জেলার অভয়নগর থানাধীন দূর্গাপুর গ্রামে রেখেছে।তখন আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু বায়েজিত শেখ’কে সাথে নিয়ে যশোর জেলার অভয়নগর থানাধীন দূর্গাপুর গ্রামস্থ আসামী উজ্জল শেখ এর স্ত্রীর ভাড়া বাসায় ইং ২৮/০৮/২০২৫ তারিখ রাত্র অনুমান ০৩.০৫ ঘটিকায় উপস্থিত হই।
উক্ত বাসায় তালা বন্ধ দেখে বাসার মালিক জনৈক আবুল কালাম আজাদ(৪০),পিতা-মৃত আব্দুল হামিদ’কে ডাকে। বাসা মালিক জনৈক আবুল কালাম আজাদ পুলিশ সহ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বন্ধ রুমের তালা শাবল দিয়ে ভেঙ্গে রুমের মেঝেতে বিছানো তোষকের নিচে ০৭টি ওয়ালটন কোম্পানির ল্যাপটপ,যাহার 5107GRF10211 মডেল নং যথাক্রমে ১। WPBX5107GRF102111994, ২। WPBX 2016, ৩। WPBX5107GRF102112279, 8WPBX5107GRF102112794, ৫ WPBX51 07GRF102113094, ৬|WPBX5107GRF102113285, ৭। WPBX 5107GRF102113305 মোট মূল্য (৬৫০০০ x ০৭)-৪,৫৫,০০০/-টাকা এবং ০১টি compaq কোম্পানির ল্যাপটপ, যাহার মডেল নং compaq presario-CQ40 লেখা আছে, মূল্য অনুমান ৪০,০০০/ টাকা উদ্ধার করি।
উক্ত আলামত ইং ২৮/০৮/২০২৫ তারিখ রাত অনুমান ০৩.৫০ ঘটিকায় জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করি।চোরাই যাওয়া অবশিষ্ট ০২টি ল্যাপটপের বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামী ও আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে তারা জনায় যে অবশিষ্ট ০২টি ল্যাপটপটি পলাতক ৩নং আসামী মোঃ রকি এর নিকট আছে।
গ্রেফতারকৃত আসামী আরো জানা যায় উক্ত চুরির ঘটনায় পরিকল্পনাকারীর মধ্যে পলাতক ৪ নং আসামী মোঃ লিটন @ লিটান মোল্যা জড়িত আছে।পলাতক ৩ ও ৪নং আসামীদ্বয় উল্লেখিত ঘটনার কয়েকদিন পূর্বে কলেজের আইসিটি-ডি ল্যাবে ওয়াই-ফাই লাইনের কাজ করে।
পলাতক ৩ ও ৪নং আসামীদ্বয় তাদের ওয়াই-ফাই লাইনের কাজে ব্যবহৃত মই চুরি কাজে ব্যবহার করে। উল্লেখিত আসামীগণ গত ইং ০৩/০৮/২০২৫ তারিখ দুপুর অনুমান ০২.০০ ঘটিকা হতে ২৪/০৮/২০২৫ তারিখ সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকার মধ্যে চুরি করে।
নড়াইল জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব কাজী এহসানুল কবীর মহোদয়ের নির্দেশনায় চুরির সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারের জন্য তৎপর হয় পুলিশ।
নড়াইল জেলার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ সাজেদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এসআই(নিঃ)শেখ সুজাত আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে গত ২৮ অগষ্ট(শুক্রবার) অত্র মামলার এজাহার নামীয় আসামী ১। মোঃ উজ্জল শেখ (৩৮),পিতা-মোঃ আজিজুর শেখ, মাতা-মোসাঃ ছায়েরা বেগম, সাং-আগদিয়া,থানা ও জেলা-নড়াইলকে নিজ বাড়ি হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।অন্য আসামিদের গ্রেফতার করতে জেলা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।