রিপোর্টারের নামঃ এস এম সাঈমুজ্জামান সাঈম
মোংলায় সিত্রাংয়ের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।ঝড়ে গত রাতে পশুর নদীর লাউডোব এলাকায় সিমেন্টের কাঁচামাল(জিপসাম)এম,ভি পৌষ-ফাল্গুনের পালা কার্গো জাহাজ ও বঙ্গবন্ধু মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক চ্যানেলে ডুবে গেছে বিআইডব্লিটিসির ষ্টিমার ঘাটের পল্টুন।ডুবন্ত ২টি নৌযান মার্কিং করে সতর্ক লাল নিশানা টানিয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ,BIWT-বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং শাখার সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুজ্জামান রকি বলেন যে পল্টুনটি ডুবেছে ওই চ্যানেল দিয়ে অন্যান্য নৌযান চলাচলে কোন সমস্যা হবেনা।দ্রুত পল্টুনটি উদ্ধারের জন্য মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে উদ্ধারকারীযানসহ লোকজন উপস্থিত হয়।
ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজের মালিক মোঃ হাফিজুর রহমান তুহিন বলেন,গত রাতে ঝড়ের কবলে পড়ে পশুর নদীর লাউডোব এলাকায় ৪শ মেট্টিক টন জিপসাম নিয়ে কার্গো জাহাজটি ডুবে যায়।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব (বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগ)কালাচাঁদ সিংহ বলেন কার্গোটি মুল চ্যানেলের বাহিরে ডুবেছে,ওই চ্যানেল দিয়ে নৌযান চলাচলের কোন সমস্যা নেই।মালিক পক্ষকে দ্রুত কার্গোটি উদ্ধারের জন্য নির্দেশনা দেয়।তিনি আরো বলেন,আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় মোংলা বন্দরে মঙ্গলবার দুপুর থেকে সকল বিদেশী জাহাজের পণ্য বোঝাই-খালাস ও পরিবহণ পুরোদমে শুরু হবে।
এদিকে ঝড়-বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২হাজার চিংড়ি মাছের ঘেরমালিক কম বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।আরও ২শ মতন ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম,তিনি বলেন চিংড়ি ঘেরের বেশি ক্ষতি হয়েছে চিলা ও চাঁদপাই ইউনিয়নে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ জাফর রানা বলেন,ঝড়ে মোংলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩শ কাঁচা ঘরবাড়ীও আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে।ঘর ও গাছপালা পড়ে ভোগান্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশকিছু পরিবার।ঝড়ের রাত সোমবার ও মঙ্গলবার দুপুরের জোয়ারে অস্বাভাবিক পানি বেড়েছে।তলিয়েছে পশুর নদীর পাড়ের জয়মনি,চিলা, কাইনমারী,কানাইনগর,শেলাবুনিয়া ও বঙ্গবন্ধু মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের পাড়ের ঘরবাড়ী।
ঝড়ে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ২দিনেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় মোংলা বন্দরের পৌর শহরসহ গ্রামাঞ্চলে।চরম ভোগান্তীতে পড়ে লাখো মানুষ।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বলেন,ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো সকল ধরণের সাহায্য সহযোগীতা পেতে পারে তাদের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে।বরাদ্দ পেলেই ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বন্টন করে দেওয়া হবে বলে জানা যায়।